|

Advertisement
×

চার মাসে রফতানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৪ বার পঠিত

চার মাসে রফতানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের পণ্য রফতানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশের পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ১৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

রফতানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। আলোচ্য সময়ে নিট পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে নিট ও ওভেন পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে সামগ্রিক রফতানি আয়ের যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৮১ শতাংশের উৎস তৈরি পোশাক খাত।

এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের শক্তিশালী অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। তবে একই সঙ্গে রফতানি আয়ে একটি মাত্র খাতের ওপর দেশের উচ্চ নির্ভরতার চিত্রও উঠে এসেছে।

পোশাক খাতের বাইরে কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাতেও রফতানি আয় বেড়েছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এ খাত থেকে চার মাসে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

রাসায়নিক পণ্যের রফতানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ খাতের রফতানি আয় বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

এ ছাড়া হোম টেক্সটাইলের রফতানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। পাদুকা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে সব খাতেই রফতানি আয়ের চিত্র ইতিবাচক নয়। জুলাই-অক্টোবর সময়ে কৃষিপণ্যের রফতানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রফতানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ।

তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রফতানি আয়ও কমেছে ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

চার মাসের রফতানি পরিসংখ্যান বলছে, দেশের রফতানি আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে এখনো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পাট, চামড়া, রাসায়নিক পণ্য ও পাদুকার মতো কয়েকটি খাতে প্রবৃদ্ধি রফতানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারা টেকসই করতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোর উৎপাদন ও বাজার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রফতানি আয়ের ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য রফতানি খাতের সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com